Business News

শেয়ারহোল্ডারদের টাকা ফেরত দেবে ‘ওটিসির’ দুই কোম্পানি

শেয়ারহোল্ডারদের টাকা ফেরত দেবে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত বিডি লাগেজ ও বিডি জিপার নামের দুইটি কোম্পানি। পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমশিনের সঙ্গে সম্প্রতি কোম্পানি দুটি এ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক করেছে। সংশ্লিষ্ঠ সুত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বিএসইসি সুত্র জানায়, বিডি লাগেজ ও বিডি জিপার কোম্পানি দুটি দীর্ঘ দিন ধরে ওভার দ্যা কাউন্টার (ওটিসি) মার্কেটে রয়েছে। ফলে বিনেয়োগকারীদেরকে কোন লভ্যাংশ দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বিনিয়োগকারীরা। সম্প্রতি কোম্পানি দুটি বিএসইসির সঙ্গে এ বিষয়ে চূড়ান্ত বৈঠক করেছে এবংসব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।বিএসইসির বর্তমান কমিশন কোম্পানগিুলোর মালিক পক্ষকে বাধ্য করেছে জনগনের টাকা ফেরত দিতে। তবে একই গ্রুপের আরো দুটি কোম্পানি ওটিসি মার্কেটে রয়েছে। কোম্পানগিুলো হলো: বাংলাদেশ ক্যামিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ ও বাংলাদেশ ডায়িং ও ফিশিং ইন্ডাস্ট্রিজ।

বিএসইসির উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা অর্থসংবাদেক বলেন, অনেকে হয়েতা ধরেই নিয়েছে যে এ কোম্পানিগুলো আর কখনো বিনিয়োগকারীদের টাকা ফেরত দেবে না। কিন্তু বর্তমান কমিশন সাধারন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কোম্পানিগুেলাকে বাধ্য করেছে টাকা ফেরত দিতে।বর্তমান কমিশন পুঁজিবাজারে সুশাসন নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।

পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ঠরা বলছেন, বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিশনের বেশ কিছু সাহসী পদক্ষেপের ফলে বাজারের প্রতি বিনিেয়াগকারীদের আস্থা ফিরেছে। শেয়ারবাজার থেকে বিনেয়াগকারীদের টাকা নিয়ে কেউ পালিয়ে যেতে পারবে না তার প্রমান ইতি মধ্যেই পওয়া গেছে। এ দুটি কোম্পানির কথা তো বিনিয়োগকারীরা ভুলেই গেছে। এ টাকা ফেরত পাওয়ার মাধ্যমে বর্তমান কমশিনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বেড়ে যাবে।

এদিকে একের পর এক চমক দেখিয়েই যাচ্ছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলাম।তিনি দায়িত্ব গ্রহনের পর নেয়া সাহসী পদক্ষেপের মধ্যে অন্যতম ছিল ফ্লোর প্রাইস তুলে না নেয়া।শেয়ারের দরপতন ঠেকাতে গত ১৮ মার্চ আরোপ করা ফ্লোর প্রাইস (প্রতিটি শেয়ারের বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন দর) তুলে নেয়ার জন্য দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বহুমূখী চাপ থাকা সত্তেও সাধারন বিনিয়োগকারীদের রক্ষায় তাতে কোন কর্ণপাত করেননি বিএসইসির চেয়ারম্যান।

সাধারন বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল দূর্বল কোম্পানি তালিকাভুক্তি ঠেকানো।ইতিমধ্যেই শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বে থাকা কমিশন সেই রাস্তাও বন্ধ করেছেন।পুঁজিবাজারে আসার অপেক্ষায় থাকা একাধিক দূর্বল কোম্পানির প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) আবেদন বাতিল করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এছাড়াও দীর্ঘদিন ধরে জেড গ্রুপে থাকা কোম্পানিগুলোর উন্নয়নের লক্ষ্যে আমুল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান কমিশন। সব মিলিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ওপর বিনিয়োগকারীদের আস্থা বেড়েছে।  কমিশনের এসব কর্মকাণ্ড বিনিয়োগকারীদের আশাবাদী করে তুলেছে। যার কারেন প্রতিদিন প্রায় হাজার কোটি টাকার লেনদেন হচ্ছে দেশের শেয়ারবাজারে।একই সঙ্গে ডিএসইর প্রধান সূচক ইতিমধ্যেই ৫ হাজার ছাড়িয়েছে।

আরেকটি সাহসী পদক্ষেপ হলো তালিকাভুক্ত কোম্পানির পরিচালকদের এককভাবে নূ্ন্যতম ২ শতাংশ এবং সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে বাধ্য করা। ইতিমধ্যে বেশ কিছু কোম্পানির পরিচালকদের ২ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যার্থ হওয়ায় পদ বাতিল করে কমিশন, যা দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এছাড়াও নতুন একটি বীমা কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রথম বছরই নো ডিভিডেন্ট ঘোষনার পর দিনই সংশ্লিষ্ঠদের তলব করে বিএসইসি। যা এর আগে কখনও দেখা যায়নি।

বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরাতে আরও কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে বর্তমান কমিশন। আর্থিক প্রতিবেদনে অনিয়মের প্রাথমিক প্রমাণ পেয়ে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের অ্যাকাউন্টসহ সব পরিচালকের শেয়ার ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে। সিএনএটেক্স এবং তুংহাই নিটিংয়ের সাবেক এমডিসহ তিন পরিচালককে বিনা ঘোষণায় ১২ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করায় ১৪ কোটি টাকা জরিমানা করেছে। তথ্য গোপন করে আইপিওতে আসায় বিবিএস কেবলসের সব পরিচালক, ইস্যু ম্যানেজার ও নিরীক্ষক প্রতিষ্ঠানকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করেছে। কমিশনের এসব সিদ্ধান্ত বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছে, ভবিষ্যতে এমন সব অনিয়ম হলে কঠোর থাকবে বিএসইসি। এতে ইতিবাচক বার্তা পেয়েছে সব শ্রেণির বিনিয়োগকারী।

এছাড়াও কার্যকর বন্ড বাজার গড়তে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।পারপেচুয়াল বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে বন্ডে ব্যক্তি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ করার সুযোগ করে দিয়েছেন। গত মাসে দি সিটি ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক এবং ট্রাস্ট ব্যাংকের এক হাজার ৬০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন দিয়েছে বিএসইসি।এসব বন্ড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। এর বাইরে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকও বড় অঙ্কের বন্ড ইস্যুর জন্য আবেদন করেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও বন্ড বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহের আবেদন করেছে। আশা করা হচ্ছে, সরকারের বড় প্রকল্পের অর্থও বন্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করা যাবে। শরিয়াহ অনুযায়ী বিনিয়োগ করার সুযোগ করতে শিগগিরই সুকুক বন্ড চালুর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সরকারি বিল ও বন্ড যেন শেয়ারবাজারে কেনাবেচা হয়, তারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

Source: OrthoSongbad, 22.09.2020.

Link: https://orthosongbad.com/21733/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE-%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B0/