Business News

পুঁজিবাজারে ব্যাংকের বিনিয়োগ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ ছাড় শুরু

পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগের সুযোগ বাড়াতে বিশেষ ব্যবস্থার আওতায় অর্থ সরবারহ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আজ সোমবার বেসরকারি সিটি ব্যাংককে ৫০ কোটি টাকার তহবিল ছাড় দিয়েছে। ব্যাংকটি নিজস্ব পোর্টফোলিও’র মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করতে পারবে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

প্রিয় পাঠক, অর্থসূচক তার নিজস্ব ফেসবুক গ্রপ Sharebazaar- News & Analysis এ দেশের অর্থনীতি ও পুঁজিবাজারের সব আপডেট খবর পোস্ট করছে। এই গ্রুপটিতে যোগ দিয়ে সহজেই আপডেট থাকতে পারেন আপনিও। ধন্যবাদ

উল্লেখ, আস্থা ও তারল্য সঙ্কটে ধুঁকতে থাকা পুঁজিবাজারে গতি ফেরানোর লক্ষ্যে গত মাসে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল। এর একদিন পর গত ২২ সেপ্টেম্বর পুঁজিবাজারে ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ানোর সুবিধার্থে বিশেষ ব্যবস্থা অর্থ যোগান দেওয়ার লক্ষ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

সার্কুলার অনুযায়ী, ব্যাংকগুলো সরকারকে দেওয়া ঋণের বিপরীতে ধারণ করা ট্রেজারি বিল ও বন্ড বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়ে রেপোর মাধ্যমে তহবিল নিতে পারবে। ওই তহবিল ব্যাংক নিজে বিনিয়োগের পাশাপাশি তার সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে (Subsidiary Company) পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের জন্য ঋণ দিতে পারবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের যোগান দেওয়া এই তারল্য বা অর্থ যাতে পুঁজিবাজারেই বিনিয়োগ হয়, সেজন্য ব্যাংক ও সাবসিডিয়ারিকে পৃথক বিও হিসেব খুলতে হবে। ব্যাংকগুলোর অতিরিক্ত তারল্য হতে ট্রেজারি বন্ড বা বিল রেপোর মাধ্যমে এই তারল্য সুবিধা গ্রহণ করতে হবে। ট্রেজারি বন্ড বা বিলের রেপো মূল্যের ৫ শতাংশ মার্জিন রেখে তারল্য সুবিধা নিতে পারবে ব্যাংক। এর অর্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাংক তার অতিরিক্ত ট্রেজারি বন্ড ও বিলের বাজার মূল্যের ৯৫ শতাংশ অর্থ রেপোর আওতায় নিতে পারবে। আর এ তহবিলের অর্থ ব্যাংকগুলো ২৮ দিন থেকে সর্বোচ্চ ৬ মাস পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ পাবে।

সার্কুলারে বলা হয়, সার্কুলার জারির তারিখ থেকে আগামী ৩  মাসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ব্যাংকিং খাতে অতিরিক্ত তারল্য রয়েছে প্রায় ৯২ হাজার কোটি টাকা। এর প্রায় ৮৫ শতাংশই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগ হিসেবে আছে। এই ট্রেজারি বিল ও বন্ডে রাখা অর্থের একটা অংশ বিকল্পভাবে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করতে ওই সুবিধা দেওয়া হয়।

উল্লেখ, প্রতিটি ব্যাংক (শরীয়াভিত্তিক ব্যাংক ছাড়া) ১০০ টাকা আমানত নিলে সাড়ে ৮১ টাকা বিনিয়োগ করতে পারে। বাকি সাড়ে ১৮ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে সংরক্ষণ করতে হয়। মূলত আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থেই এমন বিধান রয়েছে ব্যাংকিং খাতে। সাড়ে ১৮ টাকার মধ্যে সাড়ে ৫ টাকা নগদে সংরক্ষণ করতে হয়। যাকে ব্যাংকিং ভাষায় সিআরআর (Cash Reserve Ratio-CRR) বা নগদ জমার হার বলে। বাকি ১৩ টাকা সম্পদ দিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। আর এটাকে ব্যাংকিং ভাষায় এসএলআর (Statutory Liquidity Ratio -SLR) বিধিবদ্ধ সঞ্চিতি বলে। এ সম্পদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ট্রেজারি বিল ও বন্ড।

Source: New Age, 15.10.2019

Link: http://www.arthosuchak.com/archives/533404/%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%81%e0%a6%9c%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%8b%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%82/