Business News

ডেনিম প্রকল্পে বিনিয়োগ করবে রিং শাইন টেক্সটাইলস

আইপিওর সাবস্ক্রিপশন চলতে থাকা রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেড ব্যবসা বহুমুখী করবে। সুতা উৎপাদন, সুতা রং করা ও সাধারণ কাপড় (Fabrics) উৎপাদনের পাশাপাশি কোম্পানিটি ডেনিম কাপড় (সাধারণভাবে জিন্স হিসেবে পরিচিত) উৎপাদন করবে। আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে সংগ্রহ করা অর্থের একটি অংশ ডেনিম কারখানা স্থাপনে বিনিয়োগ করা হবে। রিং শাইন টেক্সটাইলসের প্রসপেক্টাস পর্যালোচনা ও কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

কোম্পানিটি আইপিওর মাধ্যমে পুঁজিবাজার থেকে ১৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এখান থেকে ৯৬ কোটি ৪০ লাখ টাকা তারা ডেনিম ইউনিটে বিনিয়োগ করবে। গত ২৫ আগস্ট কোম্পানিটির আইপিওর আবেদন ও চাঁদা সংগ্রহ শুরু হয়েছে, এটি ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে।

গত বছর কোম্পানিটি ১৪৭ কোটি টাকা মূলধন বাড়িছে। এতে উদ্যোক্তাদের অংশ যেমন আছে, তেমনই প্লেসমেন্টের মাধ্যমেও অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। এই অর্থও ডেনিম ইউনিটে বিনিয়োগ করা হয়েছে। রিং শাইন টেক্সটাইল প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে ১৯৯৭ সালে গঠিত হয়। পরের বছর বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর মাধ্যমে ব্যবসা শুরু হয়। ঢাকার ইপিজেডে অবস্থিত কোম্পানির রেজিস্টার্ড অফিস ও কারখানা। ইপিজেডের মোট ৩০০টি প্লটের মধ্য থেকে ৬০টি প্লট বা ২০ শতাংশ নিয়ে ৩০ বছর মেয়াদে ইজারা নিয়ে ব্যবসা করছে। কোম্পানির ১২টি ভবনের আয়তন ১১ লাখ ২৮ হাজার ২৭৪ স্কয়ার ফুট। যা শুরু হয় ১৯৯৮ সালের ১ মার্চ। ইজারার মেয়াদ নবায়নের মাধ্যমে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। রিং শাইনে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ আধুনিক তরল বর্জ্য শোধনাগার বা ইটিপি প্লান্ট। যার মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেমিক্যালযুক্ত ময়লা পানি ব্যবহারযোগ্য করা হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে ১০ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ওয়ারহাউস। যেখানে মেশিনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মালামাল উঠা-নামানো করা হয়। রিং শাইনে ইয়ার্ন, স্পিনিং, ফ্লিচ ফেব্রিক নিটিং ও ফ্লিচ ফেব্রিক ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং উৎপাদন ও বাজারজাতকরন করা হয়। নতুন করে কোম্পানিটি ডেনিম ব্যবসায় নামছে।

এ বিষয়ে কোম্পানিটির জেনারেল ম্যানেজার মো. নাসির উদ্দীন অর্থসূচক বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোষাক রফতানির ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ আসে ডেনিম কাপড় থেকে। বিশ্বব্যাপি এ পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই রফতানি বাণিজ্যে ডেনিমের বাজার ধরতে আমরা এ ব্যবসায় বিনিয়োগ করছি। তবে বর্তমানে ভিয়েতনাম থেকে ডেনিম কাপড় সবচেয়ে বেশি রফতানি হয়। বিশ্বে এই ডেনিম পণ্যের বাজারের আকার প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলার। ২০২৫ সালের মধ্যে ৮৫.৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হবে এই বাজার। এই বাজারের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে রিং শাইন ডেনিম প্রকল্প করছে।

ব্যাংক থেকে ঋণ না করে পুঁজিবাজার থেকে  আসার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আধুনিক এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি) নির্মাণে আমাদের ৩৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করতে হয়েছে। আর এ টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ করতে হয়েছে। তাই ডেনিম কারখানা নির্মাণে বিকল্প অর্থায়নের জন্য পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তি হচ্ছি আমরা।

Source: Arthosuchak, 08.09.2019

Link: http://www.arthosuchak.com/archives/526172/%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ae-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%8b%e0%a6%97-%e0%a6%95/